তীব্র গরমের মাঝেও আস্থার ঢল: লছিপুরে ধুমধাম সহকারে বের করা হলো অনিন্দ্যসুন্দর কলস যাত্রা
আসানসোল: তীব্র দাবদাহ ও গরমকে উপেক্ষা করে ২৪ মে ২০২৬ তারিখে ‘স্বাভিমান সংগঠন ক্লাব’ (ব্রহ্মচারী স্থান, ডোম পাড়া)-এর উদ্যোগে ‘হরি মন্দির প্রাণ প্রতিষ্ঠা এবং হরিনাম সংকীর্তন’-এর পুণ্যলগ্নে একটি বিশাল কলস যাত্রার আয়োজন করা হয়। এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যায় মহিলা, যুবক ও যুবতীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সুসজ্জিত রথে রাধা-কৃষ্ণ
এই কলস যাত্রার মূল আকর্ষণ ছিল ভগবান রাধা-কৃষ্ণের একটি সুসজ্জিত ও মনোরম রথ। রথটিকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছিল। এই রথটিকে কেন্দ্র করে সমগ্র পথ জুড়ে পুণ্যার্থীরা সংকীর্তন করতে করতে পরিক্রমা করেন। কড়া রোদ এবং শরীর ঝলসানো গরম সত্ত্বেও ভক্তদের উৎসাহে বিন্দুমাত্র খামতি ছিল না। সকাল ০৭:০০ টা থেকেই এই মঙ্গল ঘট যাত্রায় সামিল হওয়ার জন্য মানুষের ঢল নামে।
নতুন সরকারের উদ্যোগ: বরো কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জল স্প্রে ও সাফাই অভিযান
কুলটি বিধানসভা থেকে ড. অজয় পোদ্দার পুনরায় বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর এবং রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর, সনাতন ধর্মের এই উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের তরফ থেকে এক বিশেষ তৎপরতা লক্ষ্য করা গেল। তীব্র গরম এবং ধুলোবালি থেকে স্বস্তি দিতে কুলটি বরো কার্যালয়ের চিকিৎসা ও পরিচ্ছন্নতা (চিকিৎসা এবং स्वच्छता) বিভাগের পক্ষ থেকে কলস যাত্রার সম্পূর্ণ রুট জুড়ে জায়গায় জায়গায় জল স্প্রে করা হয়। এর পাশাপাশি রাস্তাঘাটও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়।
জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় মানুষের উপস্থিতি
এই শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুলটি বিধানসভার যুব বিজেপি নেতা তথা সমাজসেবী টিঙ্কু বর্মা (Tinku Verma)। তিনি সকাল থেকেই এই কলস যাত্রায় অংশ নিয়ে পুণ্যার্থীদের উৎসাহ বৃদ্ধি করেন। তাঁর পাশাপাশি ক্লাবের সদস্যবৃন্দ, তাঁদের পরিবার এবং স্থানীয় গ্রামবাসীও বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটিকে সফল করে তোলার পেছনে ‘স্বাভিমান সংগঠন ক্লাব’-এর টনি জী-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
কলস যাত্রার মূল রুট
যাত্রাটি ব্রহ্মচারী স্থান থেকে শুরু হয়ে লছিপুর গেট, এস. এন. রায় রোড হয়ে নিচে বাজার, সীতারামপুর স্টেশন রোড (অমৃত ভারত স্টেশন), উপরে বাজার সীতারামপুর, শিব মন্দির ছট ঘাট, নিয়ামতপুর মোড় এবং নিয়ামতপুর পেট্রোল পাম্প হয়ে পুনরায় ব্রহ্মচারী স্থানে এসে সমাপ্ত হয়।
দিনভর চলবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ২৪ মে সকালে কলস যাত্রার পর দিনভর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে:
হবন (যজ্ঞ): সকাল ১০:০০ টা থেকে দুপুর ০১:০০ টা পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
হরি কীর্তন: দুপুর ০২:০০ টা থেকে বিকেল ০৫:০০ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রসাদ বিতরণ: বিকেল ০৫:০০ টা থেকে সন্ধ্যা ০৭:০০ টা পর্যন্ত করা হবে।
বাউল সঙ্গীত (সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান): রাত ০৮:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা পর্যন্ত রাখা হয়েছে।
এই মহতী আয়োজন সমগ্র লছিপুর এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের পরিবেশকে ভক্তিপূর্ণ ও শান্তিময় করে তুলেছে।










