Dastak Jo Pahunchey Har Ghar Tak

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

কুলটি বরো কার্যালয়ে তুমুল উত্তেজনা: জন্ম শংসাপত্র নিয়ে ক্ষোভ মহিলাদের, হাল ধরলেন বিজেপি নেতা টিঙ্কু বর্মা

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email
ASANSOL DASTAK ONLINE DESK

ASANSOL DASTAK ONLINE DESK

Oplus_16908288

কুলটি বরো কার্যালয়ে তুমুল উত্তেজনা: জন্ম শংসাপত্র নিয়ে ক্ষোভ মহিলাদের, হাল ধরলেন বিজেপি নেতা টিঙ্কু বর্মা
​নিয়ামতপুর (আসানসোল), পশ্চিমবঙ্গ: আসানসোল পৌরনিগমের কুলটি বরো কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আজ এক তুমুল উত্তেজনা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন দেখা গেল। বিপুল সংখ্যক স্থানীয় নাগরিক (বিশেষ করে মহিলারা) তাঁদের সন্তানদের জন্ম শংসাপত্র (Birth Certificate) না মেলায় ক্ষুব্ধ হয়ে কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। উত্তেজিত জনতার অভিযোগ, গত বেশ কয়েকদিন ধরে পৌরনিগমে চক্কর কাটা সত্ত্বেও তাঁদের শুধু দিনক্ষণ দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে সন্তানদের জরুরি কাজকর্ম আটকে রয়েছে।

ডিজিটাল পোর্টাল বন্ধের সাফাই; নবান্ন থেকে চলছে তদন্ত
​পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে দেখে কুলটি বিধানসভার উপাধ্যক্ষ, আসানসোল জেলা মিডিয়া ইনচার্জ তথা মাননীয় কুলটি বিধায়কের প্রতিনিধি শ্রী টিঙ্কু বর্মা অবিলম্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি হাতে সরকারি বিজ্ঞপ্তির কপি নিয়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করেন এবং ডিজিটাল পোর্টাল বন্ধ থাকার আসল কারণ ব্যাখ্যা করেন।
​জনতাকে উদ্দেশ্য করে টিঙ্কু বর্মা বলেন:
​”সমগ্র ভারতে এখন ম্যানুয়াল বা হাতে কলমে কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এবং সবকিছু ডিজিটাল মাধ্যমে করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের (নবান্ন) নির্দেশানুযায়ী, এই মুহূর্তে পোর্টালে ভেরিফিকেশন এবং কঠোর নিয়মাবলীর তদন্তের কাজ চলছে—কোন কাজ সঠিকভাবে হয়েছে এবং কোথায় গরমিল রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই উচ্চপর্যায়ের তদন্তের (Inquiry) কারণেই নবান্ন থেকে ডিজিটাল পোর্টালটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।”
​তিনি আশ্বাস দেন যে, রাজ্য সরকারের এই তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়া মাত্রই পোর্টালটি পুনরায় চালু (Live) করে দেওয়া হবে।
​তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিশানা; ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মহিলারা
​বক্তব্য রাখার সময় বিজেপি নেতা টিঙ্কু বর্মা বর্তমান ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভকারীদের বলেন, “কর্পোরেশন তো নিয়ম মেনেই কাজ করছে। আপনাদের এই সমস্যা শোনা এবং এর সমাধান সূত্র বের করা স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরদের (Councillors) দায়িত্ব। আপনারা আগে তাঁদের বাড়িতে যান এবং জবাব চান যে কাজ কেন আটকে রয়েছে।” এই কথা শুনতেই উপস্থিত জনতার ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।
​সেখানে উপস্থিত মহিলারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন যে, তাঁরা কাউন্সিলরদের শুধু নির্বাচনে জেতার জন্য ভোট দেননি, বরং জনগণের পরিষেবা ও কাজের জন্য ভোট দিয়েছেন। তাই তাঁদের সমস্যার সমাধান এই বরো কার্যালয়েই হতে হবে।
​আশ্বাসের পর শান্ত হল পরিস্থিতি: ১০০-র বেশি মানুষের তালিকা তৈরি
​পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে চলে না যায়, তার জন্য ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং পৌরনিগমের নিরাপত্তাকর্মীরা মোতায়েন ছিলেন। তবে মহিলাদের দুর্ভোগ দেখে কুলটি বিধায়কের প্রতিনিধি টিঙ্কু বর্মা সংবেদনশীলতা দেখান এবং নিজেই উদ্যোগ নেন।
​তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ: তিনি ঘটনাস্থলেই ১০০ জনেরও বেশি ভুক্তভোগী নাগরিকের নাম এবং মোবাইল নম্বরের একটি তালিকা (List) তৈরি করান।
​বড় আশ্বাস: তিনি জনগণকে প্রতিশ্রুতি দেন যে, পোর্টাল খোলার সাথে সাথেই বিভাগের কর্মীরা নিজে থেকে তাঁদের ফোনে ডেকে নেবেন এবং অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তাঁদের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
​শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি: এই দৃঢ় আশ্বাস ও অনুরোধের পর সমস্ত মায়েরা, বোনেরা, যুবকেরা এবং প্রবীণ নাগরিকরা শান্ত হন এবং নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
​এই ডিজিটাল বিভ্রাটের কারণে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।